দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক । বিবিসি বাংলা ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে টানা অবরোধ ও অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পাহাড়ি সংগঠনগুলোর তৎপরতা নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের অবস্থান পর্যালোচনা করে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে টানা অবরোধে এলাকায় চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন পর্যটন অর্থনীতি ও জীবনজীবিকায় এই পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করেছে। অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও পর্যটন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি সাজেকের মাচালং এলাকা থেকে অস্ত্রধারী জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপকে সরিয়ে দেওয়া। সংগঠনের আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা অভিযোগ করেন একত্রিশ অগাস্ট থেকে ওই গ্রুপ এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তাদের উপস্থিতি চাষাবাদ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। গ্রামের দায়িত্বশীলদের মারধর হুমকি মোবাইল ছিনতাই ও অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে। কয়েকটি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া বলেছেন সরকার সকল অবৈধ অস্ত্রধারীদের সাজেক এলাকা থেকে বিতাড়িত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এক গ্রুপকে সরিয়ে আরেক গ্রুপের জন্য জায়গা করে দেওয়া সম্ভব নয়। আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বই মূল সমস্যা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাজেক উপত্যকায় প্রতিদিন শতাধিক জিপ চলাচল করে এবং দেড়শতাধিক হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন একাধিক আঞ্চলিক সংগঠনকে বার্ষিক চাঁদা দিতে হয়। জিপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন বলেন কোনো অস্ত্রধারীর কাছে জিম্মি থাকতে চান না তারা। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এই চাপ থেকে মুক্তি চায়।
জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সংগঠন কোনো সশস্ত্র আন্দোলন করছে না। সাজেকের পরিস্থিতি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি। অন্যদিকে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকেও সশস্ত্র গ্রুপের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। তারা আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে কিন্তু আন্দোলনের সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে।

পাহাড়ি নেতা সন্তোষিত চাকমা বলেন চুক্তির আগে একটা দল থাকলেও এখন একাধিক গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিষয় রাজনৈতিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। সরকার শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান চায় বলে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া জানিয়েছেন।
অবরোধের কারণে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত সমাধান চেয়েছেন যাতে নির্ভয়ে পর্যটকরা সাজেক ভ্রমণ করতে পারে। পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হলে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
