লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

মরিয়মের মৃত্যু মামলা: পরিবারের সঙ্গে আপস, তবু জামিন মিলল না এমপি নজরুলের

প্রকাশিত: 30 সেপ্টেম্বর 2026

33 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের কথা আদালতে তুলে ধরেছে আসামিপক্ষ। তবে আপসের কথা জানানো হলেও বুধবার ঢাকার আদালত গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর হয়েছে।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে মামলাটির জামিন শুনানি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানান, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস মীমাংসা হয়েছে এবং বাদীপক্ষ আদালতে উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আদালত মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। ফলে মামলার তদন্ত চলাকালে তাঁকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে। পুলিশ সেখানে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় থাকতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মরিয়মের মৃত্যুর পর পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয়। ২১ সেপ্টেম্বর আদালত নজরুলকে চার দিনের এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর নজরুলকে আরও চার দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার তদন্তভার পরে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে মরিয়মের মৃত্যুর পরিস্থিতি, তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক এবং ঘটনার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরিয়মের কক্ষে পাওয়া কয়েকটি হাতে লেখা নোট নিয়েও তদন্ত চলছে। সেগুলো তাঁর নিজের লেখা কি না তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, মরিয়মের মৃত্যুর সময় তিনি ওই বাসায় ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতের বিচারে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার আগে ও পরে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি মরিয়মকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়।

বর্তমানে মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তদন্তের ফল। বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হলেও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের আইনগত পরিণতি কী হবে তা নির্ভর করবে তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। বুধবারের আদেশে অন্তত আপাতত গাজী নজরুল ইসলামের কারামুক্তির পথ বন্ধই থাকল।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24selcuksportstaraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24taraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24selcuksportscanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçcanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izle