দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার আগে উড়োজাহাজটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উড়োজাহাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংস্থার পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করা হয়। ঘটনার বিস্তারিত জানতে সেই নিয়ম অনুসারেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, আপাতত তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৭৭ গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। চার দিনের জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার জন্য নির্ধারিত এই ফ্লাইটের যাত্রা শুরুর সময় ছিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা।
নির্ধারিত সময়ের কিছু পর উড়োজাহাজটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে এগিয়ে যায়। তবে উড্ডয়নের আগে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় পাইলট যাত্রা স্থগিত করেন। পরে উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয় এবং ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রকৌশলীরা।
বিমানটির ত্রুটি মেরামতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলীদের সঙ্গে জাপানের কারিগরি কর্মীরাও কাজ করেন। মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর উড়োজাহাজটি আবার যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হয়।
বিমান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে উড়োজাহাজটির পুশব্যাক শুরু হয়। এরপর রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইট বিজি ৩৭৭ ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু হয়।
উড়োজাহাজে ঠিক কী কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ত্রুটিটি কখন শনাক্ত হয়েছে, উড্ডয়নের আগের পরীক্ষা চলাকালে তা ধরা পড়েছিল কি না এবং মেরামতের পর নিরাপদে যাত্রার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তে পর্যালোচনা করা হতে পারে।
তবে তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যপরিধি কিংবা সম্ভাব্য প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি বিমান কর্তৃপক্ষ। তাই ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা যাচাই, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা এবং ত্রুটি শনাক্তের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
