দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্মরণধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে জোটটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের সব জেলা ও মহানগরে সেমিনার আয়োজন। এছাড়া ৬ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন এবং স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে।
৮ জুলাই রাজধানীতে একটি জাতীয় সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই মাসের ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত আয়োজন করা হবে চিত্রপ্রদর্শনী।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩১ জুলাই দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে প্রার্থনার কর্মসূচিও পালিত হবে। ৫ আগস্ট রাজধানীসহ দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জোটটি।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থানে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ এবং সারা দেশে গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচি বিভিন্ন তারিখে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটি বৈঠক করে নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত করবে। তিনি জানান, কয়েকটি মহানগরীতে পূর্বঘোষিত সমাবেশ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি রাজধানীর বাইরে সারা দেশে ৪ জুলাই গণমিছিল কর্মসূচিও পালন করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতারা।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরার লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
