দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং সমুদ্রপথে মাইন পেতে রাখার প্রস্তুতিতে থাকা স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কমান্ড মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাটি “আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ” হিসেবে চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় মোতায়েন মার্কিন সেনা ও নৌবহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখেই “সর্বোচ্চ সংযম” প্রদর্শন করে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানি বাহিনীর কিছু তৎপরতা মার্কিন বাহিনীর জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি” হয়ে উঠেছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি চালানো হয় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে। এই এলাকায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো রয়েছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী’র প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত।
এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বন্দর আব্বাস এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করা হয়। তবে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি Iran সরকার।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় শান্তি আলোচনা এগোচ্ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই সম্প্রতি আলোচনায় “কিছু অগ্রগতি” হওয়ার কথা বললেও দ্রুত কোনো চুক্তি হবে না বলে সতর্ক করেছিলেন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আলোচনায় “তাড়াহুড়ো না করার” নির্দেশ দেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে যেকোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
