দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরায় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের বেঁচে যাওয়া বাসি খাবার খেয়ে অন্তত ১০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও প্রায় ২০টি গরু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পশু চিকিৎসা বিভাগ।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি মথুরার ভৈসা গ্রামে ঘটে। গত ২০ মে গ্রামের এক প্রধানের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিপুল পরিমাণ খাবার অবশিষ্ট থাকে। পরে ২২ মে সেই খাবার স্থানীয় একটি গোশালার গরুগুলোকে খেতে দেওয়া হয়।
খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর একের পর এক গরু অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। অনেক গরুর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং হজমজনিত জটিলতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে স্থানীয় প্রশাসন ও পশু চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়।
মথুরার মুখ্য পশু চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এন এন শুক্লা জানিয়েছেন, মোট ৩০টি গরু অসুস্থ হয়েছিল। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তারা ‘অ্যাসিডোসিস’ নামের জটিলতায় আক্রান্ত হয়। সাধারণত পচা বা অনুপযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে প্রাণীর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলেই ১০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের বিশেষ পশু চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। পাশাপাশি পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ভেটেরিনারি উনিভার্সিটি এর বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হয়। অসুস্থ গরুগুলোর চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মৃত গরুগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
ভারতে গরুকে ধর্মীয়ভাবে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, বিভিন্ন অঞ্চলে গোশালাগুলোর অব্যবস্থাপনা ও পশুখাদ্যের মান নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পশু কল্যাণ ব্যবস্থাপনায় তদারকির ঘাটতির দিকটিও সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনাটি শুধু অবহেলার নয়, পশু ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের প্রশ্নও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশু খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
