লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আবারও গুজরাটে মসজিদ ও মাজার উচ্ছেদ, কোনো নোটিশ ছাড়াই অভিযান চালানো হচ্ছে

প্রকাশিত: 01 জুলাই 2026

20 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কচ্ছ জেলায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে তিনটি মসজিদ, কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের অন্যতম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামা ই হিন্দ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও মসজিদ ভাঙার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর জমিয়ত উলামা ই হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কচ্ছ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাশমী অভিযোগ করেন, প্রশাসন কোনো পূর্ব নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক জুনা কান্দলা মসজিদও রয়েছে। মসজিদের খাদেমের অভিযোগ, হঠাৎ করেই প্রশাসনের লোকজন এসে অভিযান শুরু করে এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার এবং মসজিদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সেখানে যেতে দেয়নি। বরং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিপুর এলাকার আরও একটি মসজিদ একই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে মোট ৩০টি অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে। তবে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর বিষয়ে পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বিতর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাংশ এসব অভিযানে আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman