দ্য সিভিলিয়ানস । স্পোর্টস ডেস্ক ।
আটলান্টা, ০৮ জুলাই ২০২৬: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ১৬-এ আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচে বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে ফিফা ও রেফারিং টিম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।
ম্যাচে মিশর দ্বিতীয়ার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। মোহাম্মদ সালাহর অ্যাসিস্টে মোস্তফা জিকো অসাধারণ গোল করেন। কিন্তু উদযাপনের পর ভিএআর রিভিউয়ে গোলটি বাতিল হয়। রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারকে জানানো হয় যে, ২০ সেকেন্ড আগে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ওপর একটি ছোট ফাউল হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে ইজিপ্টের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরে লিওনেল মেসি দুর্দান্ত এক ভলি থেকে গোল করে স্কোর সমতায় আনেন এবং ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়লাভ করে।
এই বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনার অন্য খেলাগুলো :
এই ম্যাচের বিতর্ক একক ঘটনা নয়। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অনেক ম্যাচেই রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া (গ্রুপ স্টেজ): লিওনেল মেসি একটি স্টাডস-আপ চ্যালেঞ্জ করেন আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ওপর। অনেক বিশেষজ্ঞ (থিয়েরি হেনরি সহ) বলেছেন, এটি সরাসরি লাল কার্ডের মতো ছিল। কিন্তু রেফারি ও ভিএআর কোনো সাজা দেয়নি। অথচ একই ধরনের ফাউলে আমেরিকার ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।

আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত পেনাল্টি পেয়েছে এবং বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে গেছে। অনেক ফ্যান ও বিশ্লেষক বলছেন, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও মেসির কারণে ফিফা আর্জেন্টিনাকে “স্টার ট্রিটমেন্ট” দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্কাই স্পোর্টসের রব হ্যারিস ও বিবিসির হেনরি উইন্টারসহ অনেকে বলেছেন, ভিএআরের এই ব্যবহার নিয়ম অনুসারে ঠিক হলেও ফুটবলের চেতনার সাথে যায় না। ইজিপ্টের গোলটি একটি “ম্যাজেস্টিক” কাউন্টার অ্যাটাক ছিল, যা ৮০ গজের দূরত্বে দারুণ পাসিংয়ে হয়েছিল।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
একটা পরিসংখ্যান ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই বিশ্বকাপে বিল্ডআপে ফাউলের কারণে ভিএআরে বাতিল হয়েছে মোট ১২টি গোল। সবগুলো ছিল অন্য দলের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার তিনটি গোলের বিল্ডআপে ফাউল থাকলেও সেগুলো ভিএআরে যায়নি।
মিসরের ফুটবল বিশেষজ্ঞ আহমাদ ইউসুফ বিবিসি রেডিওকে বললেন, “পুরো মিসরজুড়ে হতাশা। ভিএআরের ব্যবহারে এত অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে যে প্রশ্ন উঠবেই।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সরাসরি লিখছেন ম্যাচটা কারসাজি করা হয়েছে।
দ্য বিগ লিডের মন্তব্য, “সেরা দলটাই জিতেছে। কিন্তু এই বিশ্বকাপে আবারও মূল চরিত্র হয়ে উঠল ভিএআর।” এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২২ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
