দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে নাটকীয় পরাজয়ের পর ম্যাচ পরিচালনা, ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত এবং টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর দাবি, মাঠের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিষয়ও ম্যাচের ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। এমনকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল মিসর। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১১ মিনিটে তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হতাশা প্রকাশ করে হাসান বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে আমরা ভালো খেলেছি। প্রায় সব দিকেই এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি এই প্রতিযোগিতায় থাকুক।’ তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল মিসরের একটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির মাধ্যমে বাতিল হওয়া। রেফারির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গোলের সূচনায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর ফাউল হয়েছিল। কিন্তু হাসানের অভিযোগ, একই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি ফাউল পর্যালোচনা করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা ন্যায্য বিচার পাইনি। আমাদের দ্বিতীয় গোল বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ভিএআরে দেখা হয়নি।’

মিসর কোচ আরও দাবি করেন, মোহাম্মদ সালাহর ওপর সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনাও উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মান বা ন্যায্য প্রতিযোগিতা কোনোটাই পাইনি। খেলাধুলায় অন্তত ন্যায়বিচার থাকা উচিত।’
রেফারি নির্বাচনের বিষয়েও আপত্তি জানান হাসান। তাঁর মতে, ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ম্যাচের আগে থেকেই তাদের আপত্তি ছিল। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষ রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে এবং এ বিষয়ে কোনো অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করেনি।
ম্যাচ শেষে রেফারির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কথাও স্বীকার করেন মিসর কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, এটা অন্যায়। আমি মনে করেছি, তিনি কিছু লুকানোর চেষ্টা করছেন।’
অন্যদিকে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা শিবির রেফারিং বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। দলটির কোচ এবং খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন, মানসিক দৃঢ়তা এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত মাঠের রেফারির চূড়ান্ত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই কার্যকর হয়। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন পর্যন্ত ম্যাচটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
