দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পটুয়াখালীর গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি ট্রলার ডুবে ছয় জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ট্রলারডুবির পর পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে দুই দিন ধরে কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলেদের যৌথ তল্লাশি অভিযান চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়ন থেকে ১১ জন জেলেকে নিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রে যাত্রা করে। পরদিন রোববার (৫ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে ডুবে যায়।
ট্রলারডুবির পর জেলেরা প্রাণ বাঁচাতে ট্রলারের ভাঙা অংশ ও একটি ভাসমান বয়া আঁকড়ে ধরে সাগরে ভেসে থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর একই এলাকায় মাছ ধরতে থাকা অন্য একটি ট্রলার পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন বায়েজিদ (৩০), ইমাদুল সিকদার (৪০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজীব (২৫)। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ইমাদুল খাঁ (৪৫), হারুন (৬০), ফোরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) ও আক্কাস (২৫)। তাঁদের স্বজনেরা উৎকণ্ঠার মধ্যে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজার মো. ইজাজুল হক জানিয়েছেন, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাগরের আবহাওয়া ও জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সমুদ্র নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও আকস্মিক উচ্চ ঢেউ মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম বহন এবং নিবন্ধিত নৌযান ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে।
