দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কিশোর আদিলকে ঘিরে হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর বাবা আবুল কালাম। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশের জন্য তিনটি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শহীদদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যাবে না, বিচারব্যবস্থাকে হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব স্মৃতিচারণ প্রকাশ করেন চিকিৎসক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পোস্টে তিনি আদিলের পরিবারের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে আন্দোলনে নিহত হওয়ার আগের দিনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন।
স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, আদিল তখন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরের বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একদিন তিনি মায়ের কাছে জানতে চান, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় কীভাবে নিশ্চিত করা হয়। জবাবে তাঁর মা বলেন, সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র দেখে অনেক সময় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরদিন সকালে আদিল মায়ের কাছে নিজের পরিচয়পত্র চান। তবে অজানা আশঙ্কায় তাঁর মা পরিচয়পত্রটি লুকিয়ে রেখে ছেলেকে বাইরে যেতে নিষেধ করেন। আদিল মাকে আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি বাইরে যাবেন না, শুধু ছাদে উঠবেন। যাওয়ার আগে সন্ধ্যায় একসঙ্গে গ্রিল খাওয়ার কথা বলেন এবং নিজের জমানো টাকা থেকে ৫০০ টাকা মায়ের হাতে তুলে দেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই টাকাটি আজও স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন তাঁর মা।
তবে ছাদে যাওয়ার কথা বলে আদিল ঘর থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরিবারের দাবি, তাঁর সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় দ্রুত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন হাসপাতালে নিলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা জানতে পারেন, আদিল আর বেঁচে নেই।
ডা. তাসনিম জারা তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, আদিলের এক হাতে ছোট একটি জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল এবং পিঠেও ছিল আরেকটি পতাকা। পরিবারের ধারণা, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
স্মৃতিচারণে আদিলের বাবার তিনটি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া মানুষদের কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। তাঁরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং তাঁদের স্মৃতিকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিচারব্যবস্থার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, আদিলের মৃত্যুর ঘটনাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বিচারিক ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর প্রকৃত তথ্য ও দায় নির্ধারণে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
