দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পসহ সব শ্রেণির গ্রাহক সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। এর ফলে জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যেতে পারে এবং কিছু এলাকায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে। এ সময় পর্যন্ত গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য সংস্থাটি দুঃখ প্রকাশ করেছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড় কিংবা উচ্চ ঢেউয়ের কারণে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম ব্যাহত হলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নগরাঞ্চলের গ্রাহকেরা তুলনামূলক বেশি প্রভাব অনুভব করেন।
এদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নগর এলাকার আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার কাজে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে এলে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
