লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ভিএআরের বিতর্কিত রায়, মেসির অবিশ্বাস্য ফেরা, কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত: 08 জুলাই 2026

5 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । স্পোর্টস ডেস্ক ।

আটলান্টার মাঠে ৭ জুলাইয়ের রাতটা ফুটবল নিয়ে যাদের সামান্যও আগ্রহ আছে তারা সহজে ভুলবেন না। আর্জেন্টিনা ০-২ গোলে পিছিয়ে, মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন, মিসরের গোলকিপার বারবার থামাচ্ছেন সবকিছু। ম্যাচটা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপরও ৭৯ থেকে ৯২ মিনিটের মধ্যে তিনটা গোল করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল। কিন্তু এই জয়ের সঙ্গে লেগে আছে একটা বড় বিতর্কের ছায়া যা নিয়ে ম্যাচের পরেও আলোচনা থামছে না।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল মিসর শুধু রক্ষণ করতে আসেনি। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে গেল মিসর। সেই গোলে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পজিশনিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবে ক্রসটা এতটাই নিখুঁত ছিল যে যেকোনো রক্ষণের পক্ষে থামানো কঠিন হতো। ১৯ মিনিটে তাগলিয়াফিকোকে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টি পেল আর্জেন্টিনা। মেসি নিলেন কিক। গোলকিপার শোবের ঝাঁপিয়ে থামালেন। এই বিশ্বকাপে মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস, বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে মিসর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠল। মোহাম্মদ সালাহর মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে মোস্তাফা জিকোকে বাড়ানো বলে গোল হলো। স্কোর ২-০। কিন্তু ঠিক এইখানেই শুরু হলো আসল বিতর্ক।

গোলটির আগের বিল্ডআপে মারাওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার একজন খেলোয়াড়কে ফেলেছিলেন। ঘটনাটি গোল থেকে অনেক দূরে এবং অনেক আগে। ভিএআর সেই ফাউল দেখে গোল বাতিল করল। আমেরিকান চ্যানেল ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকাররা সরাসরি বললেন এই সিদ্ধান্ত মানা যাচ্ছে না, ফাউলটা গোলের সঙ্গে কার্যত সম্পর্কহীন। মিসরের খেলোয়াড়রা ক্ষুব্ধ হলেন। মাঠে উত্তেজনা তৈরি হলো।

তবে মিসরের দুর্ভাগ্য এখানেই শেষ নয়। ৬৩ মিনিটে সালাহ নিজেই একটা কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে দলকে ২-০ তে ফিরিয়ে আনলেন, সেটা বৈধ গোল হিসেবেই স্বীকৃত হলো।

৭৯ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে রোমেরোর হেডে ২-১। ৮৩ মিনিটে মেসি নিজেই প্রথম স্পর্শে বুলেট শটে গোল করে ২-২ সমতায় আনলেন। আর ৯২ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দূরের পোস্টে হেড গিয়ে জালে জড়াল। ৩-২। আর্জেন্টিনার বেঞ্চ প্রায় মাঠে নেমে গেল। এই বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল হলো আট, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড এখন তার।

তবে ম্যাচ শেষেও থামেনি বিতর্ক। মিসরের খেলোয়াড় হাইসেম হাসান মাঠ ছাড়ার পর রেফারির প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখলেন। মিসরের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন ফিফার ভিএআর ব্যবহারের মানদণ্ড নিয়ে। বাতিল হওয়া গোলটি দিলে মিসর ৩-০ তে এগিয়ে যেত, সেখান থেকে ফেরা আর্জেন্টিনার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হতো। অনেকেই বলছেন ফিফা বড় দলের ক্ষতি হবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করে। এই অভিযোগ কতটা সত্য তা প্রমাণ করা কঠিন, কিন্তু ঘটনাগুলো বারবার একই প্যাটার্নে ঘটলে প্রশ্নটা উঠবেই।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড বা কলম্বিয়া।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman