দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। ম্যাচ শেষে সরাসরি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি ম্যাচের রেফারিকে ‘জালিম’ বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে পবিত্র কুরআনের আয়াত, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ পাঠ করে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন।
জিকো বলেন, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক। রেফারি আমাদের সঙ্গে স্পষ্ট অবিচার করেছেন। তিনি একটি পুরো জাতির দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে নষ্ট করে দিয়েছেন।’
সাক্ষাৎকার চলাকালে তিনি আরও দাবি করেন, চলতি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনায় পক্ষপাতের ছাপ দেখা যাচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার দিকেই পরিচালিত হচ্ছে।’ এই মন্তব্যের পর সাক্ষাৎকারটি দ্রুত শেষ করে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করে মিশর। প্রথমে ইয়াসের ইব্রাহিম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পরে জিকোও জালের দেখা পান। এর আগে তার আরেকটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় বাতিল করা হয়। ওই সিদ্ধান্তই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কে পরিণত হয়। রিভিউ শেষে রেফারি জানান, গোলের সূচনালগ্নে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর ফাউল হয়েছিল। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতভেদ দেখা গেছে। কেউ বলেছেন, খেলার বিধি অনুযায়ী ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপ বৈধ ছিল। আবার কেউ মনে করেন, গোলের অনেক আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোল বাতিল করা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কের মধ্যেই ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ ১১ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর লিওনেল মেসি সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে এনসো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক সমর্থক মিশরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করলেও অন্যরা মনে করেন, বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরও ২-০ ব্যবধান ধরে রাখতে না পারার দায় মিশরকেও নিতে হবে। ফলে ম্যাচটি শুধু আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের জন্য নয়, রেফারিং বিতর্ক এবং জিকোর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার কারণেও বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
