লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

নতুন বাংলাদেশের বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকেরও সম্ভাবনা আছে

প্রকাশিত: 05 সেপ্টেম্বর 2026

30 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের মনোনয়ন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমর্থনের কথাও জাতিসংঘের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ট্রাম্পকে পাঠানো এক চিঠিতে দুই দেশের বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন স্বার্থ এবং দুই দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময় বিবেচনা করে সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে নানা সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের স্বার্থেই প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে। আগস্টে হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক নয় এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

মক্কা চুক্তিটি ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছে। তুরস্কের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক শিল্পে যৌথ প্রকল্প বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অবশ্য চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে রয়টার্সও জানিয়েছে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ দেশটির দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো পক্ষ বাংলাদেশকে বোয়িং কেনার জন্য চাপিয়ে দিচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উড়োজাহাজ চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও সরকার জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক হলে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও বিমান চলাচল খাতের সহযোগিতা আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেও আগের সরকারের সময়কার কথিত সিন্ডিকেটের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে এবং ধাপে ধাপে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটানোর প্রচেষ্টা এবং মক্কা প্রতিরক্ষা উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকগুলোও সামনে আনতে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman