লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

‘কুমিল্লা’ নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জামায়াত আমিরের

প্রকাশিত: 05 সেপ্টেম্বর 2026

33 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

কুমিল্লাকে তার নিজ নামেই দ্রুত বিভাগ হিসেবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার কুমিল্লায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দাবির বিষয়ে আর কোনো টালবাহানা করা উচিত নয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৪ সালে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি জোরালোভাবে সামনে আসে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর ভাষায়, কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? তাই কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

কুমিল্লা বিভাগের দাবি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান এর আগেও অবস্থান জানিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কুমিল্লার এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক কুমিল্লার জন্য পৃথক বিভাগ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করবেন।

শনিবারের কর্মসূচিতে তিনি কুমিল্লার নাগরিকদের জীবনযাত্রার নানা সংকট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, মানুষ ঠিকমতো গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি পাচ্ছে কি না। চাঁদাবাজি ছাড়া ব্যবসা করা সম্ভব কি না এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে কি না, সেসব প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জনদুর্ভোগের অবসানসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জনগণের দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবেন। ১১ দলীয় জোটের ঘোষিত লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিও রয়েছে।

কুমিল্লার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা কর্মকাণ্ডের কারণে একটি জেলা বা অঞ্চলের মানুষের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো অঞ্চলের মানুষকে অবহেলা বা অপমান করা হলে সেই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট তৈরি হয়।

কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মাদকসংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

শনিবারের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চটি ১১ দলীয় জোটের ঘোষিত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও মিরসরাই হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। এর আগে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করা হবে।

কুমিল্লা বিভাগের দাবি অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালেও কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে বড় সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। ফলে শনিবারের লংমার্চে জামায়াত আমিরের বক্তব্য নতুন করে এ দাবিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman