লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অব্যাহত আন্তর্জাতিক সমর্থন চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: 06 সেপ্টেম্বর 2026

35 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট যেন আন্তর্জাতিক মনোযোগের বাইরে চলে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে রোহিঙ্গা সংকটের উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে রোহিঙ্গা সংকটের দিকে নজর রাখতে হবে। শুধু বাংলাদেশকে সহায়তা করাই নয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজেদের বসতভিটায় ফিরতে পারেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ, মানবপাচার ও নিরাপত্তাঝুঁকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, সংকটের নয় বছর পূর্ণ হওয়ার পথে এসে কেবল শরণার্থী শিবির পরিচালনা ও মানবিক সহায়তার মধ্যে সমাধান খোঁজা যথেষ্ট নয়। এখন প্রয়োজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কৌশল নতুন করে নির্ধারণ করা। মূল লক্ষ্য হতে হবে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখে পৌঁছেছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া এই জনগোষ্ঠীর খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণেও আন্তর্জাতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি বছরের জন্য জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করা।

তবে প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। সম্প্রতি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে থাকা প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে তারা রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন এখনো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বলছে, রাখাইনে নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরার পরিবেশ সীমিত রয়েছে।

এরই মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা সতর্ক করেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট বাড়াচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রিত জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তাও অব্যাহত রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman