লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শেখ হাসিনা ইস্যুকে বাংলাদেশ-ভারত বৈরিতার বড় কারণ বলল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: 27 সেপ্টেম্বর 2026

32 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৈরিতার একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

নিউইয়র্কে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একটি পটভূমিভিত্তিক ব্রিফিংয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে। ব্রিফিংটি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি মার্কিন নীতি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো নির্দিষ্ট কোনো মতামত নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বড় ধরনের বৈরিতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এর সমাধান করবে বলে ওয়াশিংটন প্রত্যাশা করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। পরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়া ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তিনি এখনো ভারতে অবস্থান করছেন।

ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায় ওয়াশিংটন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরকারের বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে দেশটিকে কোনো একটি বড় শক্তির পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেছে। মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জটিল কৌশলগত পরিবেশে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো সংবেদনশীল খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদাররা সুযোগ তৈরি করতে চায়।

ওয়াশিংটনের এই অবস্থান বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও অন্যান্য বিকল্প সহযোগিতার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চীনসহ একাধিক দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

এদিকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সময়সূচির কথা উল্লেখ করে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাননি। তবে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা ইস্যু ছাড়াও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নদীর পানি, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো একাধিক বিষয় রয়েছে। ফলে বর্তমান উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে শেখ হাসিনা ইস্যু সামনে এলেও দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক গতিপথ নির্ধারণে আরও বহু বিষয় ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতেও সম্পর্কটিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman