দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জনগণের অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হলে আর নীরব থাকা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার রাজধানীর মধুবাগ মাঠে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের টাকা ঘাটে ঘাটে কিংবা স্থানে স্থানে চুরি করা হলে তাঁরা আর বসে থাকবেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে না পারলে সেই দায়িত্ব তাদের হাতে দেওয়া উচিত যারা তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।
রাজধানীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আখতারুজ্জামানকে তিনি শুধু জামায়াতের নেতা হিসেবে নয় বরং ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবেও উল্লেখ করেন।
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে আলোচনা চলছে। বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ওই ঘটনার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ৪৩। চলতি বছরে সেপ্টেম্বর শেষে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২৪৫ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭৯ হাজার ৬২০ জনে পৌঁছেছে। অক্টোবরেও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা রোগ শনাক্তকরণ জোরদার করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংস্থাটির মতে জলবায়ু পরিবর্তন অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও নগরায়ণের মতো বিষয় ডেঙ্গুর বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।
ডা. শফিকুর রহমান ডেঙ্গুকে মহামারির মতো পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে এ রোগ প্রতিরোধে তাঁদের সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান। তিনি বলেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করাই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি রোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে জনসম্পৃক্ততা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
