দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য সড়ক চলাচলের অনুমতি, চালকদের প্রশিক্ষণ ও চালনার অনুমতিপত্রসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশার মালিক ও চালকেরা অংশ নেন। একপর্যায়ে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য সড়ক চলাচলের অনুমতি দেওয়া, চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, অটোরিকশা চালকদের চালনার অনুমতিপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং অটোরিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বন্ধ করা।
চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকেরা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন। বিভিন্ন সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা, গাড়ি আটক করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে তাঁদের আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে।

অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, গাড়ি আটকের পর তা নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক চালকের পক্ষে জরিমানা বা অন্যান্য খরচ বহন করা কঠিন। আন্দোলনকারীরা এই হয়রানি বন্ধ করে তাঁদের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ঢাকার সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিকশা ও রিকশার ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী নগরায়ণের দ্রুত বিস্তার ঢাকায় পরিবহন চাহিদার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মিশ্র চলাচল যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার জটিলতা বাড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পরিবহনবিষয়ক বিশ্লেষণেও ঢাকার যান চলাচলে বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত মিশ্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু সড়ক বাড়ানো নয়, কার্যকর ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
চালকদের প্রশিক্ষণ ও চালনার অনুমতিপত্রের দাবির বিষয়টিও পরিবহন নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে বৈধ চালনার অনুমতিপত্র বা শিক্ষানবিশ অনুমতিপত্র প্রয়োজন। চালনার অনুমতিপত্র পাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ ও নির্ধারিত পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাঁরা অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার বদলে একটি সুস্পষ্ট ও বৈধ কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার দাবি করছেন। তাঁদের মতে, প্রশিক্ষণ, অনুমতিপত্র ও নির্ধারিত সড়ক ব্যবস্থার আওতায় এনে অটোরিকশা চলাচল পরিচালনা করা হলে একদিকে চালকদের জীবিকার নিরাপত্তা বাড়বে অন্যদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনাও আরও শৃঙ্খলিত করা সম্ভব হবে।
দাবিগুলোর বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অটোরিকশা মালিক শ্রমিক নেতারা।
