দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বর্তমানে ভবনগুলো তৈরিতে বিল্ডিং কোড মানলেও যেসব ভবন আগে হয়েছে, সেগুলোর নব্বই শতাংশ অনুমোদন নেই বা ব্যাত্যয় ঘটেছে বলে রাজউক তার পরিসংখ্যানে বলেছে।
সেগুলোর কি হবে, যদি এ ধরনের ভুমিকম্প আবার হয়। প্রশ্ন রাখেন তিনি।
শুক্রবার সকালে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি।
“এটা অবশ্যই আশংকার কথা। আমি কোন সস্তির কথা শুনাতে পারছি না,” উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সর্তকবানী এবং ভবিস্যতের জন্য প্রস্তুতিটা আরো আগে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আর দেরি না করে পুরোনো ভবনগুলোকে মজবুত করার জন্য প্রকৌশলগত সমাধানের দিকে যাওয়া। আমাদের এখন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন করে কোনো জলাশয় এবং পাহাড়ে হাত দেয়া যাবে না।
রেজওয়ানা বলেন, গত পাঁচ বছরে এত জোরে, এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আমরা অনুভব করিনি। এটা বারবার আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। এটাকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে আছে ঢাকা এবং পুরোনো ঢাকা। আমাদের দূযোর্গের প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। আমাদের প্রশিক্ষন প্রয়োজন। আমাদের অগ্নি ও ভুমিকম্প ঝুকি বিবেচনায় রেখে তিন বছরে একটি কর্মসূচি নিয়ে যেখানে যেখানে ঘাটতি আছে তা পুরন করা।
এর আগে উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়ে ইটভাটা বন্ধে সরকার কাজ শুরু করেছে। এ দেশের একটা গোষ্ঠী কখনো আইন মানতে চায় না। পাহাড় কেটে পাহাড়ি এলাকায় ইটভাটা করা হচ্ছে। আমাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য পরিবেশকে বাঁচাতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একটা দেশে যত বৈচিত্র্য থাকে সে দেশ ততটা সুন্দর। আমাদের দেশে যদি শুধু একটা জনগোষ্ঠী থাকতো তাহলে এত সুন্দর হতো না।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন পাহাড়ি খাবার খায় ট্রেন্ড হিসেবে, ঐতিহ্য হিসেবে নয়। তবে ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে আদিবাসী খাবারের দোকান খোলা যেতে পারে। আদিবাসী কৃষকরা যাতে বঞ্চিত না হয়, খেয়াল রাখতে হবে।’
পাহাড়ে বিদেশি খাদ্যের দিকে বেশি ঝুঁকতে যেয়ে দেশি ফলের জন্য কম জমি বরাদ্দ যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখারও আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
