লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শহীদের রক্ত ভেজা ইতিহাস ভুলে গেলে ইতিহাসই শাস্তি দেয়

প্রকাশিত: 13 জানুয়ারী 2026

30 Views

The Civilians News

১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার আগে তার ভূমিকা ইতিহাসে প্রশংসনীয় হিসেবেই বিবেচিত। কিন্তু স্বাধীনতার পর ক্ষমতা গ্রহণের পর যে রাষ্ট্রব্যবস্থা তিনি গড়ে তোলেন, তা দ্রুতই গণতন্ত্র থেকে সরে গিয়ে ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি, বিরোধী মত দমন, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়। চারটি বাদে প্রায় সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যত বিলুপ্ত হয়। রক্ষী বাহিনী গঠন করে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর অনেক অফিসারের ওপরও ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়। রাষ্ট্রের ভয় তখন আর শত্রুতে নয়, নিজের জনগণের মাঝেই বাস করছিল।

এই দমননীতি থেকে মুক্তি পেতেই দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হন। সে সময় ঢাকার রাস্তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মিষ্টি বিতরণ হয়, দেশজুড়ে বয়ে যায় এক ধরনের স্বস্তির নির্মল বাতাস। ইতিহাসের এই অধ্যায় যতই বিতর্কিত হোক, এটাও সত্য যে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তখন বিস্ফোরিত হয়েছিল।

কিন্তু ১৯৮১ সালের মার্চে পতিত আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান নিহত হন। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। ১/১১ পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক দুর্দমনীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের ওপর চালানো হয় ভয়াবহ দমননীতি, বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের সময় চালানো হয় নির্লজ্জ্ব গণহত্যা। ঝরে যায় অনেক তাজা প্রাণ।

আজ কালের পরিক্রমায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আবার নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, এই নিষেধাজ্ঞা কতদিন থাকবে? ইতিহাস বলে, নিষেধাজ্ঞা যদি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে, ইতিহাসের গতিপথ, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে তা স্থায়ী হয় না।

দেশের সাধারণ মানুষ আর চায় না এই দানব আবার বাংলার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হোক। তারা চায় না সাঈদ, মুগ্ধ, আনাস কিংবা নাম না জানা আরও অগণিত ক্ষণজন্মা তরুণের তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো জালিম শক্তি আবার পুনর্বাসিত হোক।

এই দেশ আর ইতিহাস ভুলে যাওয়ার বিলাসিতা বহন করতে পারে না। বিচার, স্মৃতি এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ছাড়া ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো অসম্ভব। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কি এবার সেই দায় নেবে, নাকি আবারও ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে ?

লেখক –
মোঃ আকতার হোসেন (রুমী)
আইনজীবী, শ্রম আইন বিষয়ক।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman