দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি দেশ গড়ার নির্বাচন। জনগণের প্রবল চাপেই দেশে পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে এবং সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ও আন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। জনগণ এখন পুরোনো রাজনীতি আর চায় না, তারা পরিবর্তন চায়।
বেকারত্ব প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বেকাররা ভাতা নয়, কাজ চায়। তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা, ভিক্ষানির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলা নয়।
কৃষিখাতে অতীতের দমননীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা একসময় ন্যায্য সারের দাবিতে গুলি চালিয়েছে, তারাই এখন ফার্মার্স কার্ডের কথা বলছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ভিক্ষাবৃত্তির চেয়েও নিকৃষ্ট।
শিক্ষাকে রাষ্ট্র গঠনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়েছে এবং দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে অসৎ লোকদের হাতে বরাদ্দ তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে বাজেট অপর্যাপ্ত, অন্যদিকে যা থাকে সেটাও অপচয় ও লুটপাট হয়ে যায়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গবেষণা বাজেট ও জনবল না থাকলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। ১১ দল ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে এবং এটিকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটানো হবে। কৃষি ও কৃষককে শিল্প ও শিল্পীতে পরিণত করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
বক্তব্য শেষে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ১১ দলীয় প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় প্রার্থীরা।
