লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

পিলখানা হত্যাকান্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক দগদগে ক্ষত

প্রকাশিত: 24 ফেব্রুয়ারী 2026

94 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস সদরদপ্তরে সংঘটিত বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৪ জন নিহত হন। ইতিহাসে এটি বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ঘটনাটি সারা দেশে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

সরকারি তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিদ্রোহে জড়িত দেখিয়ে বহু নিরপরাধ বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং আদালত রায় দেন। সে সময়ের সরকারপ্রধান ছিলেন শেখ হাসিনা। সরকার দাবি করে, বিদ্রোহ ছিল বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের ফল। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকেরা বরাবরই এই ঘটনাকে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিযোগ তুলেছেন।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনূস এর কাছে একটি পুনর্তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তৎকালীন সরকারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও বিদেশি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা আলোচনাও জনপরিসরে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পিলখানা ট্র্যাজেডির মূল অভিপ্রায় ছিল সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধাক্কা দেওয়া। বহু অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হারানোর ফলে বাহিনীর মনোবল ও পেশাগত ধারাবাহিকতা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমন্বয় ও গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।

 

বর্তমানে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকার নিরাপত্তা খাতে সংস্কার, বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথা বলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে স্বচ্ছ তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। এবং সেই সাথে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিয়ে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করতে হবে।

পিলখানা ট্র্যাজেডি আজও জাতির বিবেককে নাড়া দেয়। সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এই দিনের মূল শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman