দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিমান হামলার পর লেবানন এর রাজধানী বৈরুতে নজিরবিহীন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। আহতদের জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা সরাসরি রক্তদান করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৮ এপ্রিলের হামলায় লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১,১৫০ জনের বেশি আহত হন। আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও রয়টার্স এর প্রতিবেদনে এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালে হঠাৎ করেই রক্তের চাহিদা বেড়ে যায়। জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে লেবানিজ রেড ক্রস, যারা শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করে এবং রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করে।

এ সময় বৈরুতে অবস্থিত পোল্যান্ড দূতাবাসের (Embassy of the Republic of Poland in Beirut) এর কর্মীরা রক্তদানে অংশ নেন। শুধু পোল্যান্ড নয়, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য এর কূটনীতিকরাও রক্তদান কর্মসূচিতে যুক্ত হন। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত টম উইলসন নিজেও রক্ত দেন বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন সতর্ক করে জানিয়েছে, একদিনেই কয়েক সপ্তাহের জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার হয়ে গেছে এবং হাসপাতালগুলোতে সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনীতিকদের এই পদক্ষেপ শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। সাধারণত বিবৃতি বা নিন্দা প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা কূটনৈতিক কার্যক্রম এবার সরাসরি মাঠপর্যায়ে অংশগ্রহণে রূপ নিয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রক্তদান শুধু জীবন রক্ষাকারী উদ্যোগ নয়, বরং এটি ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। কূটনীতিকদের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সংহতির একটি বাস্তব ও দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: Reuters, Human Rights Watch, WHO
