দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হবে।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ালেও সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার এবং নৌ অবরোধ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণার পাশাপাশি ইরানের ওপর নৌ অবরোধ চালু রাখার নির্দেশ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনা চালানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর কৌশলগত চাপ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে। বিবিসি নিউজ এবং সিএনএন এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ পরিবহন হয়, ফলে এখানে যেকোনো সংঘাত বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো স্বল্পমেয়াদে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অবরোধ চালু থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।
এই পদক্ষেপে দ্বিমুখী কৌশল স্পষ্ট। একদিকে আলোচনা চালু রাখার ইঙ্গিত, অন্যদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখা। এর ফলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যেকোনো সময় আবার উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
সূত্র: Al Jazeera
