লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ডিজেল ও সারের সংকটে কৃষি খাতের চাপ বাড়ছে, উৎপাদন অনিশ্চয়তায় কৃষকরা

প্রকাশিত: 22 এপ্রিল 2026

2 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দেশের কৃষি খাত বর্তমানে ডিজেল ও সার সংকটের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির চাপে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ভরা বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের প্রান্তিক কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরকারি ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি এবং ডিএপি সারের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, বাস্তবে অনেক এলাকায় কৃষকরা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে এক বস্তা ইউরিয়ার দাম সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

জ্বালানি ও সার সংকট একসঙ্গে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতে বড় অংশের সেচ ব্যবস্থা এখনো ডিজেলনির্ভর। ফলে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ে পড়ছে। বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতিও অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে ধানসহ মৌসুমি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি ও সার সংকট একসঙ্গে তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর।

এদিকে সার উৎপাদন খাতে গ্যাস সংকটকে বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একাধিক সার কারখানা গ্যাস সরবরাহের অভাবে বন্ধ থাকায় স্থানীয় উৎপাদন কমে গেছে। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

সরকার নতুন করে সার আমদানির উদ্যোগ নিলেও মাঠ পর্যায়ে বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ডিলার অভিযোগ করছেন, চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কৃষকদের কাছে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরবরাহ সংকট নয়, বরং জ্বালানি, উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতার একটি যৌথ চিত্র। দ্রুত কার্যকর সমন্বয় না হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman