জামালপুরের মেলান্দহে কালবৈশাখি ঝড়ে ঘরের চালে গাছ ভেঙে মা ও দুই মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের পূর্ব দাগী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- পূর্ব দাগী গ্রামের মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৬৫), তার মেয়ে ফতে আক্তার (৫০) ও ফরিদা আক্তার (৩৭)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড় শুরু হয়। এ সময় প্রবল বেগের দমকা হাওয়ায় বড় গাছ ভেঙে মৃত গনি মণ্ডলের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা মা ও দুই মেয়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে। ঝড় কমলে স্থানীয়রা গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত আরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এদিকে, রোববার বিকেল ও সোমবার ভোরের দুই দফা ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘর-বাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে অনেক স্থানে চলতি মৌসুমের ধান ও ভুট্টা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের বেশ কিছু খুঁটি পড়ে যাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার বিদ্যুৎ বিভাগ।
জানা গেছে, দুই দিনে ঝড়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। এর আগে রোববার বিকেলে বজ্রপাতে দু’জন মারা যান। সে সময় বজ্রপাতে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ জন। মারা গেছে বেশ কয়েকটি গরু ও মহিষও।
তারা হলেন- সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর (ভাটিপাড়া) গ্রামের হাবিবুর রহমান মণ্ডলের ছেলে কৃষক হাসমত আলী হাসু (৪৫) ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌরসভার কড়ইচড়া গ্রামের রাজিব মিয়ার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২)।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় সামান্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো হবে।’
এছাড়া, ঝড় ও বজ্রপাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
