লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: 28 এপ্রিল 2026

8 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এ আজ থেকে জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ, যা দেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করাতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগবে। এরপর পারমাণবিক বিক্রিয়া চালু করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে আরও ৩৪ দিন লাগতে পারে। সবকিছু ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগবে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি জ্বালানি বান্ডিল ব্যবহারের কথা রয়েছে। প্রতিটি বান্ডিলে শত শত জ্বালানি রড থাকে, যা থেকে তাপ উৎপন্ন হয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘোরাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম।

আন্তর্জাতিক তদারকি নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিটি ধাপ তাদের পর্যবেক্ষণে সম্পন্ন হবে, যাতে নিরাপত্তা মান বজায় থাকে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়া হবে। সম্পূর্ণ চালু হলে এই কেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে। কয়লা বা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। পারমাণবিক বর্জ্য দীর্ঘ সময় তেজস্ক্রিয় থাকে, তাই এর নিরাপদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটি কয়েক বছর বিলম্বিত হয়েছে এবং ব্যয়ও বেড়েছে। বৈশ্বিক মহামারি, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং আর্থিক জটিলতার কারণে কাজের গতি কমে যায়। তবুও জ্বালানি প্রবেশের এই ধাপকে প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, দক্ষ জনবল এবং সময়মতো পূর্ণ উৎপাদনে যাওয়ার ওপর।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman