দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরানের নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় এই প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং সিএনএন এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্টের পছন্দ হয়নি। তার মতে, প্রস্তাবের কাঠামোয় পরমাণু ইস্যুটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
ইরান সম্প্রতি তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দেয়, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ধাপে ধাপে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। আল জাজিরা এবং বিবিসি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং তা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবের প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং ইরান ও লেবাননে ভবিষ্যতে সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে ইরান তার পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে এই ধাপটি নির্ভর করছে আগের দুই ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর। এপি এবং এএফপি এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে পরমাণু ইস্যু তাৎক্ষণিক আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে আনাদুলু এজেন্সী। তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করেনি।
এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান সময় নিয়ে চাপ কমাতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পরমাণু ইস্যুতে অগ্রগতি দেখতে চায়। এই অবস্থানগত পার্থক্যই আলোচনায় অচলাবস্থার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব কৌশলগতভাবে সাজানো হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্বেগ পরমাণু কর্মসূচি। এই ইস্যুতে দ্রুত সমাধান না এলে কূটনৈতিক অগ্রগতি সীমিতই থাকবে।
সূত্র: BBC, Reuters, CNN, Al Jazeera
