দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের বিদ্যমান আর্থিক চাপ মোকাবিলায় বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বাজেট সহায়তা হিসেবে মোট প্রায় ১৯০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যার বড় অংশই উচ্চ সুদের। এর মধ্যে প্রায় ১৬০ কোটি ডলার নন কনসেশনাল অর্থাৎ কঠিন শর্তে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই ধরনের ঋণে সুদের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যখন রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না তখন উচ্চ সুদের ঋণ অর্থনীতিতে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে ঋণ চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সী, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং OPEC Fund for International Development। এসব সংস্থার কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্প ও বাজেট সহায়তায় অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ প্রায় ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি গ্রেস পিরিয়ড তুলনামূলক কম এবং পরিশোধকালও স্বল্প হওয়ায় চাপ দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেখানে সহজ শর্তের ঋণে দীর্ঘ সময় পরিশোধের সুযোগ থাকে সেখানে এই ঋণগুলো ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে চলমান অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ এবং পরিশোধ প্রায় সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ সময়ে প্রায় ৩০৫ কোটি ডলার ঋণ ও অনুদান এসেছে এবং বিপরীতে প্রায় ২৯০ কোটি ডলার ঋণ শোধ করতে হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে নতুন ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই পরিস্থিতিতে শুধু ঋণের ওপর নির্ভর না করে রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয়ে সংযম আনা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ব্যয় কমানো গেলে উচ্চ সুদের ঋণের প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মধ্যে বাংলাদেশ এই ঋণ নিচ্ছে মূলত বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখতে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে দেখা যায় স্বল্পমেয়াদে এই ঋণ অর্থনীতিতে স্বস্তি আনতে পারে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই অর্থনৈতিক সংস্কার ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
