দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
রোববার সকালে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারসংক্রান্ত ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। যদিও মাঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট ১,৭২৯টি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রস্তাব থেকে বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আনা হয়েছে।
ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা ৩০টি অধিবেশনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি মো. সাহাবুদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর সঙ্গে আলাদা অধিবেশনেও অংশ নেবেন তারা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী স্তরের সমন্বয় বাড়ানো এবং সরকার পরিচালনার দর্শন তুলে ধরা। এবারের সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় সরকার কার্যক্রম এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র উন্নয়ন, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষি ঋণ সহজীকরণ, পর্যটন উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এছাড়া হাওর অঞ্চলে মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রস্তাবও রয়েছে।
সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এবারের সম্মেলনের বাজেট কমিয়ে ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ডিসি সম্মেলন মূলত সরকারের নীতিকে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। প্রস্তাবের সংখ্যা বেশি হলেও বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। আগের বছরের মতো যদি বাস্তবায়নের হার সীমিত থাকে, তাহলে নীতিগত আলোচনা বাস্তব পরিবর্তনে রূপ নেবে না।
