দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাগেরহাটের খান জাহান আলী মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে আট বছরের শিশু ফাতেমা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পাশাপাশি দিঘির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর দিঘির ঘাট এলাকায় গোসল করতে নেমে ফাতেমা নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়রা ধারণা করেন, পানিতে থাকা কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়েছে শিশুটি। রাতভর নৌকা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয় এবং ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকে।
মঙ্গলবার ভোরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর দিঘি থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই চারটি নৌকা নিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষ উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।
ঘটনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাজার সংলগ্ন দিঘিতে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। ফলে যেকেউ সহজেই পানিতে নামতে পারে। এতে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
একই এলাকায় এর আগেও কুমিরের উপস্থিতি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। ফলে দিঘিটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দিঘির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। কুমিরের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটন ও ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিশুটির পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, ফাতেমার মা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল সামাজিক সহায়তার মধ্যে জীবনযাপন করছিল।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন ও ধর্মীয় স্থানে জলাশয় ব্যবস্থাপনা ও বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক বেষ্টনী ও সতর্কতা ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই দিঘির ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
