লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শিশুকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অবহেলা, হাসপাতালে বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশিত: 25 মে 2026

8 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রয়েছে বেশ কয়েকজন শিশু। গুরুতর অসুস্থ্য ও অপুষ্টিতে ভুগছে অনেকেই। তাদের কারো অবস্থাই খুব একটা স্থিতিশীল নয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তারা সবাই মারাত্মক অপুষ্টি ও জটিল সংক্রমণের শিকার।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, এসব শিশু মূলত সরকারি হেফাজতে থাকা পরিত্যক্ত ও উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে কয়েকজন। তাদের অবস্থার অবনতি এখন শুধু একটি হাসপাতালের সমস্যা নয়, বরং দেশের শিশুকেন্দ্রিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।

ঢাকা বিভাগের ছোটমণি নিবাসে থাকা ৩৬ শিশুর মধ্যে ১৭ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন শিশুদের ভর্তির পর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইসোলেশনে না রাখার কারণে পুরো নিবাসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

নিবাসটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত। এখানে শূন্য থেকে সাত বছর বয়সী পরিত্যক্ত, পিতৃ-মাতৃহীন এবং পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের রাখা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আইসোলেশন এবং নিয়মিত টিকাদান বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কেন্দ্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া নতুন নয়, তবে প্রতিরোধযোগ্য। জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেনের মতে, আইসোলেশন ও টিকাদান না করা প্রশাসনিক অবহেলা হিসেবে গণ্য হয়, যা সরাসরি শিশুদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ায়।

শিশুস্বাস্থ্য সংকট শুধু ছোটমণি নিবাসেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের একাধিক হাসপাতালে হাম ও অপুষ্টিজনিত রোগে শিশুর চাপ বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এপ্রিল মাসে শতাধিক শিশু হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়। একই সময়ে একটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই সময়ে প্রতিদিন গড়ে কয়েক ডজন শিশু নতুন করে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপের কারণে শয্যার বাইরে মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও একই ধরনের চাপ দেখা গেছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে একাধিক রোগীর সঙ্গে একই জায়গায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কাভারেজে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বল সমন্বয় এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সরকারি হেফাজত কেন্দ্রগুলোতে যদি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, একদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ, অন্যদিকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা মিলিয়ে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা সামনে এসেছে, যা জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman