দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ শ্রমজীবী মানুষের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এর মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার ভোরে কালিহাতী এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রডবোঝাই ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলার শ্রমজীবী যাত্রীরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত আটজন।
নিহতদের বেশিরভাগই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে নওগাঁ জেলার ১০ জন রয়েছেন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও নাটোর জেলার বাসিন্দারাও নিহতদের তালিকায় আছেন। নিহতরা মূলত নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিহতরা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), মো. বারিক (২১), বাদশা (৩২), পাকুরিয়া গ্রামের গিয়াস (২০), মাইনুল (২৮), রাজেন্দ্রবাটি এলাকার ইয়াকুব (২০), তারেক (২০), হোসেনপুর এলাকার মাইনুল (৩৫) ও রামগ্রা এলাকার সুজন (৩৫)। এছাড়া অন্য নিহতরা হলেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০), একই জেলার সদর উপজেলার মামুন (৪৫), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হাসান আলী এবং নাটোরের মোহাম্মদ আলম মোল্লা।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতি এর সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত বাসভাড়া ও পরিবহন সংকটের কারণে অনেক শ্রমজীবী মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনাও সেই বাস্তবতারই নির্মম প্রতিফলন।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন দীর্ঘদিন ধরেই ঘটছে। কিন্তু কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে প্রতি ঈদেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত থাকে।
ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত ভাড়া, যানসংকট এবং নিরাপদ গণপরিবহনের অভাব নিম্নআয়ের মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত না করলে এ ধরনের প্রাণহানি কমানো কঠিন হবে।
