দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আমেরিকা আবারও ইরানের তেল খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ বিভাগ ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেল বিক্রয় কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরু নিয়ে একটি খসড়া সমঝোতার খবরও সামনে এসেছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক কার্যক্রমে অর্থায়ন করছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তেল বিপণন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেপেহর এনার্জি জাহান–কে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি চীনে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বেনামী কোম্পানির মাধ্যমে এই তেল বিক্রির অর্থ গোপনে স্থানান্তর করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের “সর্বোচ্চ চাপ” নীতির ধারাবাহিকতা। যদিও অতীতেও রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় প্রশাসন বহুবার ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তেহরানের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক আলোচনার এই দ্বিমুখী কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
