লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের স্থপতি ও এক অমর স্বপ্নদ্রষ্টা

প্রকাশিত: 30 মে 2026

17 Views

The Civilians News

স্বাধীনতার ঘোষক থেকে রাষ্ট্রনায়ক,  জিয়াউর রহমানের অবদানের অন্তহীন ধারা

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট, বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, স্বাধীনতার পর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে তিনি জাতির মনে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মানসুর রহমান সরকারি কেমিস্ট ছিলেন এবং মাতা জাহানারা খাতুন। শৈশবের কিছু সময় বগুড়ায় এবং কলকাতায় কাটে। দেশবিভাগের পর পরিবার করাচিতে চলে গেলে তিনি সেখানকার অ্যাকাডেমি স্কুল থেকে মাধ্যমিক সমাপ্ত করেন। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়ে ১৯৫৫ সালে কমিশন লাভ করেন। সামরিক জীবনের শুরু থেকেই তাঁর দৃঢ় চরিত্র ও নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ পায়।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর চট্টগ্রামে অবস্থানরত মেজর জিয়াউর রহমান ২৬ ও ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমি, মেজর জিয়া, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি…” এই ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি ‘জেড ফোর্স’-এর কমান্ডার হিসেবে সেক্টর-১ ও সেক্টর-১১-এ নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধে তাঁর দৃঢ়তা ও সাহসিকতা তাঁকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করে।

১৯৭৫-এর পর সংযম ও দায়িত্ব গ্রহণ
শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের আগস্টে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও জিয়াউর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতা হাতে নেননি। তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হন। এ সময় তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে মনোনিবেশ করেন।

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি
১৯৭২-৭৫ সালের দুঃশাসনের পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করেন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সুদৃঢ় করেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর কোনো দেশের ‘প্রভাব বলয়’-এ আবদ্ধ থাকেনি।

সার্ক প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান সার্ক (SAARC) গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৮০ সালে তিনি এই ধারণা প্রস্তাব করেন, যা ১৯৮৫ সালে বাস্তবায়িত হয়। এটি ছিল তাঁর দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম সাফল্য।

দারিদ্র্য বিমোচন ও খাল খনন কর্মসূচি
জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় উদ্যোগ ছিল খাল খনন কর্মসূচি। হাজার হাজার কিলোমিটার খাল খনন করে তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। এ কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কৃষি খাতে তিনি সার, বীজ ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করেন। শিক্ষা খাতে তিনি বহুমুখী শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দেন।

জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া
১৯৭২-৭৫ সালের একদলীয় দুঃশাসনের পর তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও বাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দেশ গঠনে অবদান ও শাহাদাত
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হয়। তিনি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা প্রবর্তন করেন, যা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে এক করে। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি বিপথগামী সৈন্য ও কিছু বিদেশী আধিপত্যবাদী মহলের রোষের কারণ হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর একটি বিপথগামী গোষ্ঠী তাঁকে হত্যা করে। মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর শাহাদাতের পর দেশ অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ে।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও তাঁর অমর অবদান
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তাঁর অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা অসম্ভব। তিনি শুধু একজন সেনানায়ক বা রাষ্ট্রপতি নন, বরং একজন জাতি-নির্মাতা। আজও যখন দেশ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্নে চিন্তা করে, জিয়াউর রহমানের নাম উঠে আসে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman