দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করবে সরকার বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ম: আসাদুজ্জামান। রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আলোচিত এই মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হবে। তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং আইন অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়েও কথা বলেন। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বর্তমানে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের পদায়ন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্তে সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সরকার অপেক্ষা করছে এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছে।
মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত কমিশনের আইন সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে পাওয়া সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সুপারিশগুলো যাচাই বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।
দেশের বিচারব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মামলাজটের বিষয়টি তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক ও আইনজীবীর তুলনামূলক স্বল্পতা এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এই জট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচিত অপরাধমূলক মামলাগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মামলাজট নিরসনও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলাটি ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছে সাধারণ মানুষ, মানবাধিকার সংগঠন এবং আইন সংশ্লিষ্ট মহল। সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তির অবস্থান এই মামলার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।
