দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের পর গত তিন দিনে শিল্পনগরীতে পাঁচ লাখ ২৭ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে, যা চলতি মৌসুমে চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সরবরাহ প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চামড়া শিল্পনগরীর বিসিক কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭১২টি ট্রাক শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৬টি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৫ লাখ ১১ হাজার ৫৪০টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ১৬ হাজার ১৩৬টি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিল্পনগরীর বিভিন্ন ট্যানারিতে দিনরাত চলছে চামড়া আনলোড, বাছাই, লবণ প্রয়োগ এবং প্রাথমিক সংরক্ষণের কাজ। শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও কারখানা সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ত উপস্থিতিতে পুরো শিল্পাঞ্চল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে। শিল্পনগরীর প্রধান প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট পর্যন্ত চামড়াবাহী ট্রাকের চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
বিসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই এ সময় সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয়। দ্রুত চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। শিল্পনগরীতে চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রশাসনিক সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।
চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সময়মতো লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণ না করা হলে কাঁচা চামড়ার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে ঈদের পর প্রথম কয়েক দিনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এ বছরও সেই বিষয়টি মাথায় রেখে ট্যানারিগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা চামড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা শুধু শিল্পের জন্য নয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে শুক্রবার শিল্পনগরী পরিদর্শন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী Khandaker Moktadir। তিনি বিভিন্ন ট্যানারির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিল্পের উৎপাদন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
চামড়া শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত। তাই ঈদকেন্দ্রিক এই মৌসুমের সফল ব্যবস্থাপনা পুরো শিল্পখাতের বার্ষিক কর্মক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
