লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আদিব হত্যা রহস্যের জট খুলল, জানা গেল কে হত্যা করেছিল

প্রকাশিত: 24 জুন 2026

5 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

তিন মাসের বেশি সময় ধরে রাজশাহীর পবা উপজেলার আলোচিত শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত আদিব আহনাফ ছিল রাজশাহীর বিলধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা ওষুধ ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিব গত ১ মার্চ রাতে তারাবিহ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকার একটি ঘাসখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় শিশুটির গলায় নিজের পরনের বেল্ট প্যাঁচানো ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী বা সুস্পষ্ট কোনো সূত্র না থাকায় তদন্তে দীর্ঘ সময় ধরে অগ্রগতি আসেনি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানায়, মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন গোপন সূত্র ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে এক কিশোরকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই হত্যার ঘটনা ঘটে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত কিশোরের সঙ্গে এক মেয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলেছিল আদিব। পরে সে বিষয়টি মেয়েটির মাকে জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত কিশোর পরিবারের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে এবং এ নিয়ে তাকে শাসন ও মারধরের মুখোমুখি হতে হয়।

এই ঘটনার জের ধরেই আদিবের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ বলছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে অভিযুক্ত কিশোর আদিবকে নির্জন স্থানে ডেকে নেয়। সেখানে প্রথমে তাকে আঘাত করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পর মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্ত।

গত রোববার পরিচালিত অভিযানে সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, একটি ব্যক্তিগত ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযুক্ত কিশোরের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।

এদিকে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় নিহত আদিবের পরিবার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman