লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত: 29 সেপ্টেম্বর 2026

28 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দূরদর্শিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিদ্যমান বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মঙ্গলবার ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ অবস্থানের কথা জানান তিনি। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক তৎপরতার সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী করার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে চায় এবং বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। এর আগে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত, অভিন্ন নদীর পানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও কয়েকটি বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় হয়ে রয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের আইনি কাঠামোর আলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনও সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ে ভারতের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়াতে আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনও দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছিল। অধিবেশনটি ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশের খলিলুর রহমান এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। এরপর দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে ঢাকা ও নয়াদিল্লি সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছে। তবে সেই সম্পর্ক কতটা দ্রুত স্বাভাবিক ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে তা নির্ভর করবে অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি, পারস্পরিক আস্থা এবং নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকা সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman