দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর মানবপাচারকারী চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার ২৯ মার্চ বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহত ও জীবিতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, এই যাত্রার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে এবং বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গ্রিস উপকূলের কাছে ছয় দিন ধরে সাগরে ভাসমান একটি নৌকা থেকে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ২২টি মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জীবিত জানান, দীর্ঘ সময় খাদ্য ও পানির সংকটে পড়ায় যাত্রীরা চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নৌকাটিতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জীবিত বাংলাদেশিদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।
তিনি আরও বলেন, পাচারকারীরা প্রলোভন দেখিয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে মানুষ পাঠাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত খাবার বা নিরাপত্তা ছাড়াই যাত্রা করানো হচ্ছে। এবারের ঘটনাতেও যাত্রীরা ছয় থেকে সাত দিন সাগরে আটকে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপমুখী অভিবাসনপথ হিসেবে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর রুট বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথগুলোর একটি। প্রতিবছর শত শত মানুষ উন্নত জীবনের আশায় এই পথে প্রাণ হারাচ্ছেন।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিদেশে কাজের আকাঙ্ক্ষা কাজে লাগিয়ে মানবপাচারকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।
