দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল সি-প্যালেসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, কয়েক ডজন ল্যাপটপ এবং যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানিয়েছেন, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার নম্বর ও অভিযুক্তদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে উদ্ধার করা বিপুলসংখ্যক আইফোন ও ল্যাপটপের পাশাপাশি এমন কিছু যোগাযোগ সরঞ্জামও পাওয়া গেছে, যেগুলো বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব সরঞ্জাম কীভাবে তাদের কাছে এলো এবং কী কাজে ব্যবহার করা হতো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনা নাগরিকদের একটি দল গত ২৬ আগস্ট হোটেল সি-প্যালেসে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযান চলাকালে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক অবস্থান করছিলেন। তাদের একটি অংশ অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এত বড় একটি বিদেশি নাগরিকগোষ্ঠীর কথিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তাধীন অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মুঠোফোন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও অনলাইনভিত্তিক অপরাধের অভিযোগের বিষয়টি এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। বিশেষ করে একই স্থানে বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি উদ্ধারের ঘটনায় এসব যন্ত্রের ব্যবহার ও মালিকানা নিয়ে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তে তাদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, অবস্থানের সময়কাল, ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক কোনো প্রতারণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
