লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

দিল্লীতে পুলিশ হেফাজতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন

প্রকাশিত: 05 সেপ্টেম্বর 2026

42 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ান্স । নিউজ ডেস্ক ।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের থানায় আনা হয়েছিল একটি অবৈধ পার্কিং বিতর্কের কারণে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির সাকেত এলাকায় ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নতুন উইং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি র খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন নারী সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের আটক করে সাকেত থানায় নিয়ে যায়, যেখানে পুলিশকর্মীরা তাদের লাঠি দিয়ে পেটায় এবং চড়-থাপড় মারে।

শাহীন খান দাবি করেছেন, পুলিশকর্মীরা তাদের নাম জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন তারা মুসলিম। এরপর নির্যাতন আরও তীব্র হয়। তাদের বিরুদ্ধে পরিচয়- ও সম্প্রদায়ভিত্তিক কটূক্তিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মুসলিম পরিচয় পাওয়ার পর তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠ, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে, এবং তাদের “দেশদ্রোহী ও গাদ্দার” বলে লাঠি পেটা করে বলে তারা জানিয়েছে।

দিল্লি পুলিশ অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন”, “তথ্যগতভাবে ভুল” এবং “ভ্রান্তিকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পুলিশ বলছে, দুই নারী তাদের স্কুটি নিয়ে ভিভিআইপি রুটে অবৈধভাবে পার্ক করেছিলেন। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রোটোকলের কারণে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) অনন্ত মিত্তাল এক বিবৃতিতে পুলিশের বক্তব্য সমর্থন করেন।

অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই সাংবাদিকের হাত ও পায়ে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ৪ পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের পোস্ট করা ভিডিওতে শাহীন খানকে বলতে শোনা যায়, “এটাই আমাদের কপালে জুটেছে শুধু প্রশ্ন করার কারণে, আর সবচেয়ে বড় কারণ আমরা মুসলিম।”

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, সাংবাদিক সংগঠনগুলো যেমনঃ প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেন’স প্রেস কর্পস, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসসহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে।

রাজনৈতিক দল: কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (এএপি) পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি করেছে। ৪ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক ও কর্মীরা সাকেত থানার সামনে বিক্ষোভ করে এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানায়।

৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও নাগরিক গোষ্ঠী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অপরদিকে ভারতীয় পুলিশ এই অপকর্ম ঢাকা দিতে বিভিন্ন সোশ্যাল হ্যান্ডেলে মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করছেন নেটিজেনরা। পুলিশের একটি এক্স (টুইটার) অভিযোগ অস্বীকার করে পোস্ট করে, পরে অবশ্য সেই পোস্ট তারা মুছে ফেলেছে বলে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল জাজিরা, টিআরটি ওয়ার্ল্ডসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।

এই ঘটনাটি ভারতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এসেছে। সাংবাদিকরা বলছেন, তারা শুধু তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন, সরকারি অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার।

অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য যে এটি একটি পার্কিং বিতর্ক ছিল, যা কেউই বিশ্বাস করছেননা, বিশেষ করে ভিডিও প্রমাণ এবং সাংবাদিকদের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্নগুলো বেশ স্পষ্ট ও তাজা ছিল।

এই ঘটনাটি ভারতীয় সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, প্রশ্ন তুলেছে তার গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়েও।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman