লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কে? মিরপুরে গাড়ি ভাঙচুর, বাসে হামলা, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

প্রকাশিত: 02 নভেম্বর 2026

11 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক । সুমন মোহাম্মদ ।

রাজধানীর মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশ, গাড়ি ভাঙচুর, বাসে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিবি মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, কয়েকদিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছে। তবে গতকাল থেকে তারা বেশ সহিংস হয়ে উঠেছে। মূলত সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী নাশকতার চেষ্টা করছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. কামাল গাজী (৩২), মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), মো. নাহিদ হাসান (১৮), আরিফ আকন্দ (২৯), জায়েদ করিম রিয়াজ (২৪), মো. রমজান সরকার (১৮), মোয়াজ্জেম শাহরিয়া (নিয়াজ), জুবায়েদ ইসলাম জিসান (২২) ও মো. মাহিম মোল্লা (১৯)।

আজ সোমবার সকাল ৭টা থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকরা রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন। এ সময় কিছু অটোরিকশাচালককেও শ্রমিকদের সঙ্গে একত্রিত হতে দেখা যায়।

একপর্যায়ে মিরপুর বিআরটির সামনে একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন বাসে হামলা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনাও ঘটে।

সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থক ও কর্মীদের লাঠি হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম জানান, মিরপুরের ১২ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযানে মিরপুর বিভাগ থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন অমান্য করে যারা রাস্তা অবরোধ, গাড়ি বা কারখানায় ভাঙচুর এবং জনগণের জানমাল বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

যুবদলের সাবেক নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নই। শ্রমিকরা আমাদেরই অংশ। তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে চায়, যারা যানবাহনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে।”

শ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন। গতকাল শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠনের খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ।

মিরপুরের অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, হটাৎ করেই কিভাবে এই শ্রমিক অসন্তোষের উৎপত্তি হল, করা অত্যান্ত নিখুঁত পদ্ধতিগতভাবে শ্রকিকদের সংগঠিত করছে, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের আড়ালে কারা সহিংসতা ছড়াচ্ছে? কারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে?

প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে সহিংসতায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izleselçuk sportsselçuksportsjustin tvnetspor tv