দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ওঠা সৈয়দা ফৌজিয়া হোসেন বর্তমানে বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর রাজনৈতিক অতীত নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, সৈয়দা ফৌজিয়া হোসেন অতীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি ছিলেন বলেও বিভিন্ন নথি ও প্রচারিত তথ্যের বরাতে দাবি করা হচ্ছে।
তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ফৌজিয়ার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন দলের তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফৌজিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কের আরেকটি কারণ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনেও ফৌজিয়ার উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাঁরা দাবি করছেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে বিএনপির ঘনিষ্ঠ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এলেন। একই সঙ্গে তাঁরা দলীয় পরিচয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাচাই বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলের সক্রিয় ব্যক্তিদের দলীয় পরিসরে জায়গা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের সুযোগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনকারীদের অতীত ভূমিকা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। তাঁদের মতে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিলেন। ফলে অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের হঠাৎ করে দলীয় পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে সৈয়দা ফৌজিয়া হোসেন বর্তমানে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্বে থাকলেও তিনি সরাসরি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পদধারী কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংগঠনটির সঙ্গে বিএনপির আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সম্পর্কের বিষয়টিও নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা জরুরি।
ফৌজিয়ার রাজনৈতিক অতীত, বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে অভিযুক্ত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি দলীয় পদ বা সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বচ্ছভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
