লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

প্রকাশিত: 09 সেপ্টেম্বর 2026

37 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বুধবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে যৌথ প্রশিক্ষণ, সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়, দুর্যোগ মোকাবিলা, আঞ্চলিক শান্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।

বৈঠকের শুরুতে দুই পক্ষ পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

দীনেশ ত্রিবেদী ভবিষ্যতে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দীনেশ ত্রিবেদীকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিনের কূটনীতিক নন, বরং ভারতের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা একজন প্রবীণ রাজনীতিক। তার নিয়োগকে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পরিধিও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর’ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সফরটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানো।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। মার্চে ভারতের কোচিতে অনুষ্ঠিত ভারত মহাসাগরীয় নৌবাহিনী সংস্থার সামুদ্রিক মহড়ায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের অংশগ্রহণ ছিল। সেখানে অপ্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্তে সমন্বিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সীমান্ত অপরাধ মোকাবিলাও এই সহযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য।

দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, সামরিক প্রশিক্ষণ, কৌশলগত শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা সংলাপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে।

বুধবারের বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার এই ধারাবাহিকতা দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24casibomselcuksportstaraftarium24selcuksportscasibom