দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মাত্র ১০৩ রানের পুঁজি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ধুঁকলেও বোলারদের দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে একসময় ৫৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি।
সেখান থেকে ইনিংস সামাল দেন শারমিন আক্তার। ৩১ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ৩৮ রান করে তিনি বাংলাদেশের সংগ্রহকে লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যান। অধিনায়ক নিগার সুলতানা করেন ২৩ রান। জুয়াইরা ফেরদৌস ও নাহিদা আক্তার যোগ করেন ১৬ রান করে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা আরও কঠিন করে তুলেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অফস্পিনার সুরক্ষা কোত্তে। তিনি ১১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। ইন্ধুজা নন্দকুমার পান দুটি উইকেট। ফলে ছোট লক্ষ্য তাড়া করে স্বাগতিকদের জয়ের সম্ভাবনাই তখন বেশি মনে হচ্ছিল।
কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে সেই প্রত্যাশা টেকেনি। রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একপর্যায়ে মাত্র ৩৮ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ৬৯ রানেই থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রাবেয়া খান। চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার নেন দুটি করে উইকেট। নাহিদা ব্যাট হাতে ১৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পান তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে হেনা হটচাঁদানি সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন। তীর্থা সতীশ করেন ১১ রান। দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৪ রানের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বের চতুর্থ ও শেষ সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। এর আগে একই গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। অন্য গ্রুপ থেকে ভারত ও পাকিস্তান শেষ চারে ওঠে।
বাংলাদেশের সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। পরদিন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ী দল ১৩ সেপ্টেম্বর শিরোপার লড়াইয়ে নামবে।
ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ না পেলেও চাপের মুহূর্তে বোলারদের অসাধারণ প্রতিরোধ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের টিকিটের জন্য লড়বে বাংলাদেশের মেয়েরা।
