লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগোতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: 05 অক্টোবর 2026

10 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফল আমদানি, চামড়া শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহযোগিতায় তুরস্কের সঙ্গে নতুন ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার ঢাকায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিজ সেনের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনাতেও দুই দেশ বাণিজ্য বাড়ানো, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।

বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার বিষয়টি সাম্প্রতিক রপ্তানি পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ তুরস্কে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও বস্ত্রসংশ্লিষ্ট পণ্যও তুরস্কে রপ্তানি হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ তুরস্কের ফল রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। তুরস্কের ফল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। ইলেকট্রনিকস ও জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে উৎপন্ন বিপজ্জনক বর্জ্য পরিশোধন, সংরক্ষণ ও নিরাপদ নিষ্পত্তিতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। তুরস্কে এ ধরনের বর্জ্যের জন্য বিশেষায়িত পরিশোধন, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি অবকাঠামো রয়েছে। দেশটির বর্জ্য আমদানি ও পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাতেও কঠোর অনুমোদন ও নজরদারির বিধান রয়েছে।

চামড়া শিল্প নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জানান, পরিবেশগত কারণে দেশটিতে চামড়া প্রক্রিয়াজাত ও ট্যানারি কার্যক্রম আগের তুলনায় কমেছে। একই সময়ে কৃত্রিম চামড়ার ব্যবহার এবং কাঁচামাল আমদানির প্রবণতা বেড়েছে। তুরস্কে কৃত্রিম চামড়াসহ বিভিন্ন চামড়া ও বস্ত্রপণ্যের আমদানিতে বর্তমানে নির্দিষ্ট মান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রী জানান, আসন্ন তুরস্ক সফরে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি, তুরস্কের বিনিয়োগ এবং যৌথ উদ্যোগের নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশন এবং বিশ্ব হালাল শিল্প সম্মেলন ও হালাল প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। কমিটির ৪২তম মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশন ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর তুরস্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী পর্যায়ের মূল অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী অংশ নেবেন। পরবর্তী আয়োজনগুলোতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

বৈঠকে শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান, তুরস্ক দূতাবাসের অর্থনৈতিক কাউন্সিলর এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman