লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ শোধ ২০৪ কোটি ডলার, বাড়ছে পরিশোধের চাপ

প্রকাশিত: 08 সেপ্টেম্বর 2026

28 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশ সরকার চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হিসাবে, কোনো পাঁচ মাসের সময়কালে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। অর্থাৎ পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলার বিদেশি ঋণের দায় মেটাতে হয়েছে সরকারকে।

গত বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে পাঁচ মাসে পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ১৫ কোটি ডলার। এ বৃদ্ধি মূলত আগের বছরগুলোতে নেওয়া বিভিন্ন ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের দায় বাড়ার বিষয়টিই সামনে আনছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর হিসাবেও বিদেশি ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ছিল প্রায় ২৬৭ কোটি ডলার। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ৩৩৭ কোটি ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪০৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিশোধ আরও বেড়ে প্রায় ৪৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ প্রায় ২৬৭ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছিল। একই সময়ে নতুন বিদেশি ঋণ ছাড় হয়েছিল প্রায় ২৪০ কোটি ডলার। অর্থাৎ নতুন করে পাওয়া ঋণের চেয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেশি ছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ প্রবণতা দেশের আর্থিক ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়।

আগস্টের তথ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ প্রায় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার পরিশোধ করলেও নতুন বিদেশি ঋণ পেয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ডলার। একই সময়ে নতুন ঋণ ছাড়ের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই চাপের পেছনে আগের বছরগুলোতে নেওয়া বড় প্রকল্প ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক ঋণের অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিতভাবে মূল ঋণের পাশাপাশি সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমলেও পুরোনো ঋণের দায় কমছে না।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের মতে, অতীতে নেওয়া বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণ এখন পরিশোধের পর্যায়ে এসেছে। বর্তমান সরকারের সামনে তাই একদিকে আগের দায় পরিশোধের চাপ রয়েছে, অন্যদিকে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ধরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়াকে শুধু সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদেরা। তাঁদের মতে, বিদেশি ঋণের অর্থ যদি উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা না যায় এবং নতুন ঋণ ছাড় কমে যায়, তাহলে একই সময়ে ঋণ পরিশোধ বাড়তে থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবেও বাংলাদেশের ওপর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সময়সূচি রয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও বাংলাদেশকে ঋণের কিস্তি ও বিভিন্ন ধরনের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনীতির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন ঋণের ব্যবহারকে আরও কার্যকর করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুফল, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে, ভবিষ্যতে বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সেসব প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ঋণের শর্ত ও ব্যয়ের কার্যকারিতা কঠোরভাবে যাচাই করা জরুরি।

ফলে পাঁচ মাসে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধের রেকর্ড একদিকে বাংলাদেশের দায় পরিশোধের ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে সামনে থাকা বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার চাপও স্পষ্ট করছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman